মীনা দিবসের গল্প

সোহানুর রহমান
কিশোরবার্তা.কম0f1cbcb2c96b49cb61a8f1fac040f1d874554721

মীনা দিবসের গল্প সোহানুর রহমান: সাম্প্রতিক সময়ে তোমরা ভারতীয় চ্যানেলের কিছু কার্টুন দেখতে দেখতে ভুলতে বসেছ আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা ও নিজস্ব সংস্কৃতিকে। কার্টুন নেটওয়ার্ক সহ হিন্দি ডরিমন, নবিতা ও টম এ্যান্ড জেরির দুষ্টুমি আর আদুরে কথাবার্তায় বিমুগ্ধ হয়ে নিজেকেই গড়ে তুলতে চাচ্ছ একটি কার্টুন হিসেবে। এ কার্টুনগুলো যে তোমাদের কত বড় যে ক্ষতি করছে তাতো তোমরা জান না। এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ও টিভি চ্যানেলে উদ্বেগজনক প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে বহুবার। এ নিয়ে আলোচনা গড়িয়েছে জাতীয় সংসদে প্রযন্ত। এ কার্টুনগুলো দেখতে দেখতে একেবারে নিজেদেরই ভুলতে বসেছ আশংকাজনক ভাবে। তবে আমরাতো কার্টুন দেখতাম। আমাদের সময় ডোরিমন-নবিতা ছিল না।আমরা দেখতাম মীনার কার্টুন। তবে আমরা তোমাদের মত এতটা আসক্ত ছিলাম না।

আমরাও কার্টুন দেখতাম আর তোমরা কার্টুন দেখ।তবে এর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে আমদের বন্ধু হচ্ছে মীনা। মীনা শুধু আমাদের না তোমাদেরও বন্ধু। মীনার কাছ থেকে আমরা অনেক কিছুই শিখেছি। সেই ৯০ দশক থেকে আজকের দিন প্রযন্ত প্রায় ১৭ বছর ধরে মীনা আমাদের সমাজের প্রতিটি মানুষের মনের মনিকোঠায় একটি উজ্জ্বল চরিত্র হিসেবে স্থান দখল করে নিয়েছে। আজ ২৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় মীনা দিবস। তোমরা সহজ কথায় বলতে পারো মীনার জন্মদিন। তোমরা যেমন অনেক আনন্দ ফূর্তি করে তোমাদের জন্মদিন পালন করে থাক, আমরাও এ দিনটিতে মীনা দিবস পালন করি ।মীনা কেন সবার প্রিয় মীনার পরিচয়,মীনার জন্মের ইতিকথার গল্প আজ শোনাব তোমাদের সবাইকে।এতক্ষনে হয়তো তোমাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে মীনা দিবসটি কি বা এটা কেন? তাহলে শোন জাতীয় মীনা দিবসের পেছনের গল্পটি। ৯০ দশকে শুরু হওয়া মীনার কার্টুন একসময় অর্জন করে তুমুল আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা। তোমাদের মত ছোট্ট ছোট্ট ক্ষুদে বন্ধুরা বেশী বেশী দেখতে মীনার কার্টুন। মন্ত্রমুগ্ধ শুরু করে।বাংলাদেশের প্র তিটি ঘরে গিয়ে যদি জিজ্ঞেস করা হত তোমরা কি মীনাকে চিনো, মীনা কার্টুন দেখ?

তাহলে কি উত্তর আসত তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। শুধু কি শিশু বন্ধুরা ! শিশুদের পাশাপাশি মীনার জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে বড়দের কাছেও। মীনার সচেতনতামূলক গল্পগুলো ছড়িয়ে পড়ে বাংলার গ্রাম-গন্জে, মাঠ-ঘাটে সর্বত্রই। মীনার কার্টুনের প্রতিটি পর্বে সকল মানুষের কাছে সম্পূর্নভাবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে আমাদের সমাজের পিছিয়ে পড়া বিশেষ জনগোষ্ঠী মধ্যে অশিক্ষা,ধর্মীয়, কুসংস্কার অসচেতনতা, অবহেলা আর বৈষম্যের কারনে সৃষ্ট সমস্যাসমূহ সমাধানে মীনার বুদ্ধিদীপ্ত ভূমিকা। মীনার মিষ্টি মধুর আচরন মন জয় করে নেই সকল শিশু বন্ধুদের। সমাজের মানুষের চোখে আঙ্গুল দিয়ে মীনা দেখিয়ে দেয় শিশুবিবাহ, যৌতুক, জনসংখ্যা সমস্যা, নারীশিক্ষা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রোগ-প্রতিরোধ, শিশু অধিকার সহ সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতির চিত্র।শুধু অসঙ্গতি নয় নিজে ভূমিকা নিয়ে বাতলে দেয় সমাধানের পথ। কন্যাশিশু ও পুত্র শিশুদের মধ্যে বৈষম্য দীর্ঘদিনের।সেই ৯০ দশক কিংবা তার আরো আগে কন্যাশিশুদের কথা ভাবতে চাইত না অভিবাবকরা।জন্ম থেকেই কন্যাশিশুদের উপর শুরু হত নানা বৈষম্য। কেউই চাইত না তাদের পরিবারে কন্যাশিশুরা জন্ম নিক। কোন পরিবারে কন্যাশিশু জন্ম নিলে ঐ শিশুর মায়ের উপর নেমে আসত বহুমুখী নির্যাতনের খড়গ। শিক্ষাতো দূরের কথা খাবারের বেলায় চলত বৈষম্য।ধনী,গরীব,আর মধ্যবিত্ত পরিবার বলো প্রায় সকল পরিবারেই এমনটা চলত। কন্যাশিশুদের অধিকার বলতে কিছুই ছিলনা।লঙ্ঘিত হত তাদের সকল অধিকার।এমন এক করুন পরিস্থিতিতে সমাজকে বদলে দিতে বিদ্যমান সকল অসংঙ্গতি সমূহ উঠে আসতে থাকে মীনার কার্টুনের মাধ্যমে।

মীনার কার্টুনের মাধ্যমে জাদুর মতো কমতে থাকে শিশুদের মধ্যে বৈষম্য। বাড়তে থাকে নারী শিক্ষার হার। এখন আর অভিবাবকরা কোন বৈষম্য করে না তাদের সন্তানদের মধ্যে। মীনার কার্টুনের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মানুষ তার নিজের দায়িত্ব সচেতন হয়ে ওঠে। মীনার কার্টুনের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ও ইস্যুভিত্তিক সচেতনতা সৃষ্টিতে মীনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাষ্ট্রীয়ভাবে ১৯৯৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখে ঐ দিনটিকে ঘোষনা করা হয় জাতীয় মীনা দিবস। সেই বছর থেকে প্রতিবছর ২৪ সেপ্টেম্বরব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় পালিত হয় দিবসটি। মীনা দক্ষিণ এশিয়ার জনপ্রিয়তা অতিক্রম করে আরবি, বার্মিজ, চীনা ভাষাসহ প্রায় ত্রিশটির বেশি ভাষায় ডাবিং হয়েছে এবং কোটি কোটি দর্শকের কাছে পৌঁছে গেছে। বাংলাদেশের শিশুদেরও প্রিয় কার্টুন মীনা আজ বাংলাদেশের নয়, বিশ্ববাসির।

এতক্ষন তোমরা অল্প অল্প করে শুনলে মীনা দিবসের গল্পটি।এখন হয়তো তোমাদের জানতে ইচ্ছা করছে মীনার পরিচয় কি আর কিভাবে জন্ম হল মীনার??কিভাবে এলো মীনার ভাই রাজু ও টিয়া পাখি মিঠু। বাংলাদেশে কিভাবে শুরু হলো মীনা কার্টুন? এসব প্রশ্নের পিছনে রয়েছে একটি মজার গল্প।

লেখক:- বরিশাল বিভাগীয় প্রধান
কিশোরবার্তা.কম
গনমাধ্যম কর্মী ও সংগঠক


One Comment

  1. Posted April 11, 2014 at 10:14 PM | Permalink

    comming soon

Post a Comment

Your email is never published nor shared. Required fields are marked *

*
*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>